লাইফ হ্যাকস

আর্কিটেকচার পড়তে ইচ্ছুক? তাহলে এই লেখাটি তোমার জন্য

আর্কিটেকচার পড়তে ইচ্ছুক? তাহলে এই লেখাটি তোমার জন্য
আর্কিটেকচার পড়তে ইচ্ছুক? তাহলে এই লেখাটি তোমার জন্য
477views

বর্তমানে আমাদের দেশে আর্কিটেকচার নিয়ে পোস্ট গ্রাজুয়েশন করার জন্য অনেকেই আগ্রহী হয়ে উঠেছে। এটি বেশ কয়েক বছর ধরেই দৃশ্যমান। কিন্তু তাদের অনেকেই জানে না আর্কিটেকচার বিষয়টা আসলে কি? কি কি পড়ানো হয় কিংবা এই বিষয়ে পড়তে গেলে কি কি গুনাবলি থাকা প্রয়োজন। শুধুমাত্র ভালোভাবে না জানার কারণে অনেকে ভর্তি হয়ে মাঝপথে বিপাকে পড়ে যায়।

যারা আর্কিটেকচার নিয়ে পড়তে চাও কিংবা পড়ার জন্য মনস্থির করেছো, আজকের এই লেখাটি শুধুমাত্র তাদের জন্য।  আমি আমার নিজের অভিজ্ঞতার পরিপ্রেক্ষিতে আজকের এই লেখাটি লিখেছি। 

শুরুতেই বলে রাখা ভালো, আর্কিটেকচার সাবজেক্টটি কোনো সার্টিফিকেট নির্ভর পড়াশুনা না। অনেকের আবার ধারণা এই সাবজেক্টে তেমন কোনো পড়াশুনা নেই, শুধু একটু আঁকাআঁকি করতে পারলেই হয়ে যায়! কিন্তু সত্যি কথা হচ্ছে, এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। আর তুমি যদি শুধুমাত্র এই ধারনা পোষণ করে আর্কিটেকচার পড়তে আগ্রহী হয়ে থাকো, তাহলে একজন আর্কিটেক্ট হিসাবে আমি তোমাকে পরামর্শ দিবো, তোমার আর্কিটেকচার পড়ার চিন্তা বাদ দেওয়া উচিৎ।

স্কিল ডেভেলপমেন্ট ও নানা রকম মজার টপিক নিয়ে আমরা নিয়মিত ভিডিও প্রকাশ করে থাকি Shadhin School চ্যানেল এ।

একজন মানুষের জীবনে সাধারণত দুইটি বিষয় থাকে – একটি হলো প্রফেশন (Profession), অপরটি হলো প্যাশন (Passion)। বর্তমান প্রেক্ষাপট বিবেচনায়, তুমি যদি তোমার ভবিষ্যৎ পেশা বেছে নিতে চাও তবে তোমাকে ইচ্ছার চেয়ে সময়, বেতন,পজিশন, সফলতা – এইসব বিষয়কে প্রাধান্য দেওয়া উচিৎ। গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট করতে কেমন সময় লাগবে, কত খরচ হবে ইত্যাদি যাবতীয় ব্যাপারগুলোও মাথায় রাখতে হবে তোমার।

আর যদি এক্ষেত্রে প্যাশন কথাটি আসে, তাহলে এসব কোনো বিষয় নিয়েই তোমার মাথা ঘামানো উচিৎ না। নিজের ইচ্ছা এবং মনোবলটাই হচ্ছে সবচেয়ে বড়। যদি নিজের অটুট ইচ্ছা থাকে তবে যোগ্যতা তুমি নিজ থেকে অর্জন করে নিতে পারবে।

আর্কিটেকচার যতটা না প্রফেশন তার চেয়ে বেশী হচ্ছে প্যাশন। আমি এমন কিছু মানুষকে দেখেছি যারা আর্কিটেক্ট নন অথচ ভালো বাড়ি ডিজাইন করতে পারেন অনায়াসেই। আবার অনেকেই দেখেছি যারা আর্কিটেকচার পাস করে এই প্রফেশনে টিকে থাকতে পারেনি, হিমশিম খেতে খেতে শেষ পর্যন্ত জীবিকার তাগিদে তারা ভিন্ন কোনো প্রফেশন বেছে নিতে বাধ্য হয়েছে। এটির মূল কারণ তাদের ইচ্ছাশক্তি। কথায় আছে, “মনের ইচ্ছাই  সবচেয়ে বড় ইচ্ছা”। 

আরো পড়তে পারো আর্কিটেকচার স্টুডেন্টরা যে ৩টি ভুল প্রায়ই করে

সুতরাং, আমি এইটুক বলতে চাই, যদি আর্কিটেকচার পড়তে চাও তবে কারো ইচ্ছায় প্ররোচিত হয়ে নয়, সম্পূর্ণ নিজের ইচ্ছায় পড়বে। আর ধরো তোমার খুব ইচ্ছা আর্কিটেকচার নিয়ে পড়ার কিন্তু তুমি এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানো না, তাহলে তোমার উচিৎ এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানার চেস্টা করা। আশেপাশে একটু খোঁজ নিলেই পেয়ে যাবে পরিচিত কাউকে যিনি আর্কিটেক্ট কিংবা আর্কিটেকচার স্টুডেন্ট। তাদের সাথে আলাপ করলেই তুমি বিস্তারিত ধারণা পেয়ে যাবে।

যদি তোমার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ঠিক থাকে তবে যোগ্যতা আর সফলতা সময়ের সাথে সাথে অর্জন করতে পারবে। যখন তোমার প্রবল ইচ্ছাশক্তি থাকবে তখন কোনো কষ্টকেই আর কষ্ট মনে হবে না।

আমি আমার সমসাময়িক অনেকেই দেখেছি, যাদের কেউ কেউ আর্কিটেকচারে পড়াশুনা কম ভেবে এসেছে আবার কেউ কেউ মা-বাবার ইচ্ছা পূরণ করার জন্য ভর্তি হয়েছিলো। কিন্তু মাঝপথে তাদের প্রায় সবাই আর্কিটেকচার ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছে। এটা তাদের সময় তো বটেই, টাকারও অপচয় ছাড়া আর কিছু নয়।

গত ৮ বছরের পরিসংখ্যান দেখলে দেখা যায়, সব সাবজেক্টের মধ্যে আর্কিটেকচার সাবজেক্ট থেকে স্টুডেন্টরা এটি ছেড়ে দেওয়ার প্রবণতা সব চেয়ে বেশী – প্রায় ৪০%! 

আরো পড়তে পারো পড়াশুনায় নোটস এর সঠিক ব্যবহার

আর একটি ব্যাপার হলো ইউনিভার্সিটি। আমি অনেককে বলতে শুনেছি বুয়েট কিংবা অন্যান্য পাবলিক ভার্সিটি থেকে পড়ালেখা করে আর্কিটেক্ট হতে না পারলে সে আর্কিটেক্ট নাকি কোনো আর্কিটেক্টই না! কিন্তু সে কথায় কান দিবে না। কারণ ইচ্ছা আর যোগ্যতা থাকলে দেশের যেকোনো ভার্সিটি থেকে পড়াশুনা করে ভালো ডিজাইন করা সম্ভব, ভালো আর্কিটেক্ট হওয়া সম্ভব। এটি একটি ক্রিয়েটিভ প্রফেশন। এই প্রফেশনে ঠিকতে হলে তোমাকে কাজ জানা লাগবে। কোথা থেকে পাস করে বের হইছো ওইটা দেখার সময় কারই নাই। কাজ কতটুক পারো সেটাই আসল। কাজ করতে জানলে তোমার প্রফেশন বিল্ড করতে সময় লাগবে না, নতুবা বুয়েট থেকে পাস করার পরও এই প্রফেশনে টিকতে না পেরে অন্য প্রফেশন খুজা লাগবে।

তবে হ্যাঁ, চেষ্টা করবে IAB (Institute of Architects Bangladesh) accredited ইউনিভার্সিটিগুলোতে ভর্তি হতে। কেননা, IAB accredited ভার্সিটিগুলোই আর্কিটেকচার বিষয়ে পাঠদানের সকল  স্ট্যান্ডার্ড মেনে চলে।

আশা করছি, তুমি খসড়া একটা ধারণা পেয়ে গেছো। আসলে তুমি যদি নিজেকে ক্রিয়েটিভ মনে করো কিংবা ক্রিয়েটিভিটির দিকে তোমার প্রবল ঝোঁক থাকে, মারাত্মক ডেডিকেশন এবং কঠোর পরিশ্রম করার মানসিকতা থাকে তাহলে তোমার উচিৎ আর্কিটেকচার এর মত চ্যালেঞ্জিং প্রফেশন বেছে নেয়া। আমাদের দেশে আর্কিটেকচার পড়ছে এমন স্টুডেন্ট এর সংখ্যা যেমন কম না তেমনি গত ৫-৭ বছরে আর্কিটেক্ট হয়ে বের হওয়ার সংখ্যা ও কম না, অগনিত। কিন্তু এই ৫-৭ বছরে গুণগতমান সম্পন্ন কয়জন পাস করে বের হয়েছে, ঐ লিস্টটা করতে গেলে সত্যিই লজ্জা পেতে হবে। তাই এই ফিল্ডে ক্যারিয়ার গড়তে খুব একটা বেগ পেতে হবে না যদি যোগ্যতা অর্জন করতে পারো।

আরো পড়তে পারো
Google এর যেসব এপ্লিকেশন স্মার্টফোন ব্যবহারকে করবে আরো সহজ
বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে ধনী অভিনেতা কে জানো?
ফেসবুকে সময় নষ্ট না করে কাজে লাগাও
শিখে নাও কিভাবে ফোন কাভার বানাবে!

Leave a Response