লাইফ হ্যাকস

ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্সঃ মানব মন

571views

দৈনন্দিন জীবনে নিজের ও অন্যদের আবেগের প্রকাশকে বুদ্ধিমত্তার সাথে ম্যানেজ করাই হলো ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স (Emotional Intelligence )- EI বা আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা। এটাকে আবেগ সংক্রান্ত বুদ্ধিমত্তা বা অনুভূতিজনিত বুদ্ধিমত্তা বা ইমোশনাল কোশেণ্ট (Emotional Quotient) – EQ বলেও নামকরণ করা হয়। EQ হচ্ছে নিজের এবং অন্যের আবেগ,মানসিকতা,ইচ্ছা-অনিচ্ছা,ভাবনাকে উপলব্ধি করার ক্ষমতা; সবার সাথে মিলে-মিশে মানিয়ে চলার ক্ষমতা।

জেনে নাও জীবনে সফল হতে হলে সবার আগে যা করনীয়

বিষয়টি যত সহজে বলে ফেললাম,আসলে ততটা সহজ নয়। যদি তাই হতো,তাহলে চারিদিকে এত সম্পর্কের ভাঙ্গন হতো না। একটু ভেবে দেখুনতো,যদি আমরা অন্যের মনের মধ্যে কি চলছে তা বুঝতে পারতাম,তাহলে কত ভুল বোঝাবুঝির অবসান হতো তাই না? কত সম্পর্ক ভাঙার বদলে আরো দৃঢ় হতো?

স্কিল ডেভেলপমেন্ট ও নানা রকম মজার টপিক নিয়ে আমরা নিয়মিত ভিডিও প্রকাশ করে থাকি Shadhin School চ্যানেল এ।

জীবনের বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মানুষ নিয়ন্ত্রিত হয় তার আবেগ দ্বারা। আবার এই আবেগের কারনেই সূত্রপাত ঘটে দৈনন্দিন জীবনের অধিকাংশ সমস্যার। আবেগকে ঠিকমতো বুঝে নিয়ন্ত্রন করা গেলে এড়ানো যায় এসব সমস্যা, অর্জন করা যায় অনেক লক্ষ্য। এ কারণেই EQ এর গুরুত্ব এত বেশি। এমনকি সারা বিশ্ব জুড়ে চলা বিভিন্ন গবেষণা এটা প্রমাণ করেছে যে,আমরা ভবিষ্যতে সফল হতে পারবো কি না তা মাত্র ২০শতাংশ নির্ভর করে আমাদের IQ (Intelligence Quotient)  এর উপর। আর বাকি ৮০শতাংশ নির্ভর করে আমাদের EQ এর উপর। সুতরাং সফলতার ক্ষেত্রে EQ কে IQ এর চেয়েও অধিক গুরুত্বপূর্ণ ধরা হয়।

 

EQ এর জন্য নিম্নলিখিত ৪টি বিষয়ে অনুসরণ করতে হয় বা খেয়াল রাখতে হয়ঃ

Shadhin School

আরো পড়ো সফলতার ৭টি সুত্র

১। আত্মসচেতনতা (Self-Awareness)

নিজের অনুভুতি,দুর্বলতা,সবলতা,মূল্যবোধ ও লক্ষ্য সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে এসব মাথায় রাখাই আত্মসচেতনতা। আপনার অনুভূতিগুলো বোঝার চেষ্টা করুন। যেমন মনে করুন,আপনি হয়ত সামান্যতেই রেগে যান,মাথা ঠাণ্ডা রাখতে পারেন না। বুঝতে চেষ্টা করুন কি কি ঘটনা আপনাকে সহজেই রাগিয়ে দিচ্ছে বা দেয়। এই রাগ কি অন্য কোন ঘটনার কারণে আপনার ভেতরে জমে আছে? নাকি অন্যকিছু? বুঝতে চেষ্টা করুন। যেসব ঘটনা কিংবা মানুষ আপনাকে সহজেই রাগিয়ে দিচ্ছে চেস্টা করুন সেসব ঘটনা কিংবা মানুষকে এড়িয়ে চলতে।

জেনে নাও পাসপোর্ট র‍্যাঙ্কিং নিয়ে যা জানা জরুরি

২। আত্মনিয়ন্ত্রণ (Self-Regulation)

নিজের ক্ষতিকর আবেগ বা মনোবৃত্তিগুলো নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা বা পরিবর্তিত অবস্থার সাথে নিজেকে মানিয়ে নেয়াকে আত্মনিয়ন্ত্রণ বা Self Regulation বলে। আত্মনিয়ন্ত্রণ খুব গুরুত্তপূর্ণ। যারা আত্মনিয়ন্ত্রিত তারা সহজেই নেগেটিভ ইমোশনকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারে। এতে করে তাদের জীবনে দীর্ঘ মেয়াদি কোনো নেগেটিভ প্রভাব পড়ে না, যেমন; সহজেই আবেগপ্রবণ হয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত না নেওয়া, না ভেবেই কোনো কিছু করে ফেলা ইত্যাদি।

আরো পড়ো ফেইল মানেই কি সব শেষ?

৩। সামাজিক দক্ষতা (Social Skills)

ShadhinSchool.com

এটাই হলো ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্সের মূল লক্ষ্য। ঠিক যেমন নিজেকে বোঝার জন্য নজর রেখেছিলেন নিজের উপর,এবার একই কাজ করুন আপনার চারপাশের মানুষগুলোর সাথে। যে মুহূর্তে আপনি আপনার চারপাশের মানুষগুলোকে বুঝতে শুরু করবেন, তাদের সাথে মিশতে শুরু করবেন, তখন তাদের সঙ্গে আপনার সম্পর্ক ম্যানেজ করা অনেক সহজ হয়ে যাবে।

আরো পড়ো মোটিভেশনের অভাব?

৪। সহমর্মিতা (Empathy)

ShadhinSchool.com

কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় অন্যদের অনুভূতি এবং চাহিদার বিষয়ে সজাগ থাকাকেই সহমর্মিতা বলে। একজন সহানুভূতিশীল ব্যাক্তির সাধারণত খুব উচ্চ পর্যায়ের EI বা Emotional Intelligence থাকে যার কারণে তাঁর আশে-পাশে যে বা যারা আছেন তাদের অনুভুতি/চাহিদা আপাত দৃষ্টিতে প্রতীয়মান হোক বা না হোক সহজেই তিনি অনুধাবন করতে পারেন।

আরো পড়ো ক্যারিয়ার শুরুতে ব্যর্থ ছিলেন সফল যে ৪ উদ্যোক্তা

EQ  সম্পন্ন মানুষের কিছু গুণাবলিঃ

নিচে উল্লিখিত ইমোশনাল ইনটেলিজেন্ট ব্যক্তিদের বৈশিষ্ট্যগুলো খেয়াল করুন। আপনার অভ্যাসের সাথে কি মিল খুঁজে পাচ্ছেন?

EQ এ এগিয়ে থাকা ব্যক্তিরা বহুমাত্রিক যোগ্যতার অধিকারী, দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন গুণাবলি অর্জনে দক্ষতা সম্পন্ন। তারা মনের গভীরে প্রবেশ করার ক্ষমতা রাখেন, সবার সাথে মানিয়ে ও সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলার আচার-আচরণ রপ্ত করতে পারেন, তারা নিজেরদের অনুভূতি সম্পর্কে সচেতন থাকেন, তারা সঠিক সময়ে বিরতি নিতে জানেন, তারা বিশ্লেষণের মাধ্যমে নিজেদের ভুলগুলো ধরতে পারেন এবং সেই ভুলের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে দ্বিধা করেন না। তাছাড়া তারা বুঝতে পারেন যে, কেউ আসলে নিখুঁত নয়। ক্ষমা করতে না চাওয়া আসলে একটি ক্ষতকে নিরাময় হওয়ার সুযোগ না দেওয়ার মতো। যখন দোষী ব্যক্তিটি তার জীবনে এগিয়ে চলছে, তখন অযথা সেই ব্যক্তির উপর অসন্তোষ পুষে না রেখে তাকে ক্ষমা করার মধ্যমে EQ সম্পন্ন ব্যক্তিরা নিজেদেরও এগিয়ে চলার সুযোগ করে দেন। ব্যক্তির বাহ্যিক সৌন্দর্যের চেয়ে ভেতরের সৌন্দর্যকে মূল্যায়নের ক্ষমতা থাকায় অন্যের সাথে তাদের ব্যবহার হয় মানবিক,আন্তরিক ও সঠিক। ফলে প্রশাসন,বিক্রয়,বিপণন,মোটিভেশন ও উন্নয়ন কৌশলে তাদের সক্ষমতা বেশি।

জেনে নাও ভুল তথ্য/গুজব কিভাবে আটকাবে?

অন্যসব দক্ষতার মতো ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্সকেও নৈতিক,অনৈতিক দুই ভাবেই ব্যবহার করা যায়। এর মাধ্যমে যেমন আমরা অনেক নেতিবাচক অনুভূতি থেকে মুক্তি পেতে পারি,তেমনি অনেকে এ দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে অন্যকে অনেক নেতিবাচক উদ্দেশ্য সাধনের জন্যও প্রভাবিত করতে পারে। ঠিক যেমনটি ISIS এ জড়িত ব্যাক্তিরা তাদের EQ কে কাজে লাগিয়ে অন্যকে Manipulate করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত করে থাকে। তাই আমাদের এর ক্ষতিকর প্রভাব প্রতিরোধের দক্ষতাও অর্জন করতে হবে।

নিচের লেখাগুলোও পড়তে পারো
ই-মেইল ব্যবহার এর ৬টি শিস্টচার
Fake News বা গুজব কিভাবে চিনবে?
ফেসবুকে সময় নষ্ট না করে কাজে লাগাও
আমাদের ডাবের পানি কেনো খাওয়া উচিৎ?

Leave a Response