প্রেরণামূলক

ক্যারিয়ার শুরুতে ব্যর্থ ছিলেন সফল যে ৪ উদ্যোক্তা

ক্যারিয়ার শুরুতে ব্যর্থ ছিলেন সফল যে ৪ উদ্যোক্তা
ক্যারিয়ার শুরুতে ব্যর্থ ছিলেন সফল যে ৪ উদ্যোক্তা
180views

প্রতিটা মানুষ জীবন চলার পথে কখনো না কখনো ব্যর্থতার শিকার হয়েছেন। ব্যর্থতা জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি অনাকাঙ্ক্ষিত হলেও ব্যর্থতাই আমাদেরকে সাফল্যের পথ দেখায়। কিন্তু সেই ব্যর্থতার প্রতি তাদের প্রতিক্রিয়া ও তা থেকে তারা কতটুকু শিক্ষা গ্রহণ করেছেন এবং সে শিক্ষা তারা কিভাবে কাজে লাগিয়েছেন, তাই তাদের জীবনে ক্যারিয়ার গড়ার পথে পার্থক্য গড়ে দিয়েছে।

কিন্তু আমাদের অধিকাংশই ব্যর্থতা দেখে হতাশ হয়ে যায় যার জন্য আমরা ক্যারিয়ার এ সফলতা পাইনা। আজ আমি ৪ জন নামকরা উদ্যোক্তার গল্প বলবো যাদের প্রত্যেকের গল্পই শেষ হয়েছে পাহাড়সম সাফল্যে, অথচ তাদের গল্পের শুরুতে কিন্তু ব্যর্থতাই ছিল। নিজের জীবনের ব্যর্থতাকে কীভাবে মোকাবেলা করবে, তা বোঝার জন্য তাদের ব্যর্থতার গল্প আমাদের সবার জন্য অনেক শিক্ষণীয় হতে পারে-

স্কিল ডেভেলপমেন্ট ও নানা রকম মজার টপিক নিয়ে আমরা নিয়মিত ভিডিও প্রকাশ করে থাকি Shadhin School চ্যানেল এ।

১। স্টিভ জবসঃ নিজের কোম্পানি থেকে যাকে একসময় বের করে দেওয়া হয়

স্টিভ জবসকে চেনে না এমন মানুষ বোধহয় যাদুঘরেও পাওয়া যাবেনা। উদ্যোক্তা হিসেবে স্টিভ জবস পরিচিত তার উদ্ভাবনী মননের জন্য। একের পর এক নতুন চিন্তা করে তিনি প্রযুক্তির জগতটাকেই বদলে দিয়েছেন। আধুনিক প্রযুক্তির জগত যে অল্প কয়েকজনের হাত ধরে এই পর্যায়ে এসেছে তাদের মধ্যে অন্যতম তিনিই। তবে তার জীবনেও একবার এসেছিল কালো অধ্যায়। সেই ব্যর্থতার সময়কেও তিনি মোকাবেলা করেছিলেন বলিষ্ঠভাবে।

বয়স ত্রিশের কোঠায় যাবার আগেই জবস সাফল্য খুঁজে পেয়েছিলেন, যখন ‘অ্যাপল’ একটি বড়সড় সাম্রাজ্যে পরিণত হয়েছিল। কিন্তু এই সাফল্যই জবসের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল, যখন ‘অ্যাপল’-এর বোর্ড অফ ডিরেক্টরস তাকে বের করে দেবার সিদ্ধান্ত নিলেন। কারণ তারা ভেবেছিলেন অ্যাপলের মতো অর্থনৈতিকভাবে সফল কোম্পানি চালাবার জন্য জবস উপযুক্ত নন।

কিন্তু এই ব্যর্থতা জবসকে বিচলিত করলো না, বরং তিনি প্রতিষ্ঠা করলেন ‘নেক্সট’ নামক এক নতুন কোম্পানি, সেটিও সাফল্যের চূড়ায় উঠতে শুরু করলো। যেটি পরে অ্যাপলই কিনে নিতে বাধ্য হলো। অ্যাপলে ফিরে এসে জবস তার বানানো এই কোম্পানিটিকে পুরো নতুন রূপ দিলেন, এবং সে রূপেই আমরা এখন অ্যাপলকে চিনি।

আরো পড়তে পারো ই-মেইল ব্যবহার এর ৬টি শিস্টচার

২। বিল গেটসঃ যার প্রথম কোম্পানি তাসের ঘরের মত ভেঙ্গে পড়েছিল

বিল গেটস এখন বিশ্বের সবচেয়ে ধনবান ব্যক্তিদের মধ্যে একজন, কিন্তু তার এই সাফল্যের পথ কিন্তু মোটেও সহজ ছিলো না। উদ্যোক্তা হিসেবে  গেটসের ক্যারিয়ার শুরুর প্রথম কোম্পানি ছিল ‘ট্রাফ-ও-ডাটা’, যে কোম্পানির উদ্দেশ্য ছিল ট্রাফিক ভিডিও থেকে ডাটার প্রসেস এবং অ্যানালাইজ করা। এর জন্য তারা একটা হার্ডওয়্যার ডিভাইসও তৈরি করেন। অনেকদিন এটাতে তিনি তার শ্রম এবং অর্থ বিনিয়োগ করেন।

তিনি তার ব্যবসায়িক অংশীদার পল অ্যালেনকে সাথে নিয়ে এই আইডিয়াটি যখন বিকানোর চেষ্টা করলেন, তাদের ডিভাইস কাজই করলো না। কোম্পানি ধসে পড়লো শুরু হবার আগেই। কিন্তু এই ব্যর্থতায় বিল গেটস দমে যাননি এবং আরো উদ্যম বাড়িয়ে কঠোর পরিশ্রম করতে লাগলেন। এর কয়েক বছর পরই তিনি প্রতিষ্ঠা করেন মাইক্রোসফট। আর তার পরের গল্প তো আমাদের সবারই জানা!

আরো পড়তে পারো দ্রুত টাইপিং শিখার ৫টি গেম এবং অ্যাপ্লিকেশন

৩। বিশ্বের সফলতম ব্লগ ‘হাফপোস্ট’ এর প্রতিষ্ঠাতা প্রত্যাখ্যাত হয়েছিলেন ছত্রিশবার

বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ব্লগগুলোর মধ্যে ‘হাফপোস্ট অন্যতম, যার পূর্ব নাম ছিল ‘দ্য হাফিংটন পোস্ট’। ভাবলে অবাক হতে হয়, এর প্রতিষ্ঠাতা আরিয়ানা হাফিংটন, যিনি কিনা অনলাইন লেখক জগতের এখনকার উজ্জ্বল নক্ষত্র, তিনিই কিনা একসময় তিন ডজন প্রকাশকের কাছে প্রত্যাখ্যাত হয়েছিলেন। হাফিংটনের দ্বিতীয় বই, যেটি তার এই সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার অনেক আগেই তিনি প্রকাশ করতে চেয়েছিলেন, সেটা প্রকাশ হবার আগে একবার নয়, দু’বার নয়, ছত্রিশ বার প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল!

হাফিংটন পোস্টও কিন্তু শুরুতে এরকম সফল ছিল না। প্রথম যখন ব্লগটি চালু করা হয়, নেতিবাচক রিভিউ দিয়ে একে ভাসিয়ে দেয়া হয়েছিল, এর মান এবং কার্যকারিতা নিয়ে শোনা গিয়েছিল অনেক নেতিবাচক মন্তব্য। কিন্তু হাফিংটন সেসব ব্যর্থতাকে ছাপিয়েই হয়েছেন বিশ্বের অন্যতম সফল একটি ব্লগের মালিক। ব্লগিংকে ক্যারিয়ার হিসাবে যারা নিতে চায় তাদের উৎকৃষ্ট উদাহরণ তিনিই।

আরো পড়তে পারো ৫টি ইউটিউব চ্যানেল যা আমাদের স্মার্ট করে তুলবে

৪। ওয়াল্ট ডিজনিকে “সৃজনশীলতার অভাব আছে” বলা হয়েছিল!

বিংশ শতাব্দীর অন্যতম সৃজনশীল ব্যক্তিত্ব ওয়াল্ট ডিজনিকে একসময় এক খবরের কাগজের চাকরি থেকে বহিস্কার করা হয়েছিল তার সৃজনশীলতার ‘অভাব’ থাকার কারণে। তখন অভাবে পড়েই ডিজনি চেষ্টা করেন নিজের কিছু দাঁড় করানোর চেষ্টা করেন, শুধু বই পড়ে একা একাই আয়ত্ত করে ফেলেন অ্যানিমেশনের খুঁটিনাটি। তার প্রথম চেষ্টা ছিল নিজস্ব অ্যানিমেশন কোম্পানি- ‘লাফ-ও-গ্রাম ফিল্মস’, এলাকায় জনপ্রিয়তাও পায় তার অ্যানিমেশনের কাজগুলো। কিন্তু সেই কোম্পানিও একসময় অর্থাভাবে বন্ধ করে দিতে হয় তাকে।

তারপর তিনি পথ খুঁজতে যান হলিউডে, সেখানেও মুখোমুখি হন তিরস্কারের। কিন্তু তিনি হাল ছাড়েননি। চেস্টা করে গেছেন প্রতিনিয়ত। তারপর আস্তে আস্তে তার কিছু চলচ্চিত্র জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করে। তার সৃজনশীলতা, কল্পনাশক্তি, নৈপুণ্য দিয়ে মন জয় করে নেন বিশ্ববাসীর। এরপর তো ক্যারিয়ার এ তাকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। এখন ডিজনি সারা পৃথিবীর সবচেয়ে বৃহত্তম ফিল্ম স্টুডিও।

আরো পড়তে পারো সঠিক সময়ে সকল কাজ শেষ করার সহজ উপায়

তাই পরবর্তীতে যখন জীবনে ব্যর্থতার সম্মুখীন হবে, অনুপ্রেরণা নেবে এই গল্পগুলো থেকে। হ্যাঁ, জীবনে কোনো এক পর্যায়ে হয়তো বড় কোনো ব্যর্থতা আসবে, মনে হবে এখানেই বুঝি তোমার পথের শেষ। কিন্তু মনে রাখবে, বিশ্বে এখন ছড়িয়ে আছে অগণিত সফল মানুষ, যারা ব্যর্থতার সময়ে হাল ছেড়ে না দিয়ে চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছেন বলেই আজ সফল হয়েছেন। এসব মানুষগুলোই হতে পারে তোমার প্রতিদিনের অনুপ্রেরণা।

জীবনে নানা রকম বাঁধা যেমন আসবে তেমনি হয়ত তোমার করা ভুলের কারণে বিপর্যয় নেমে আসতে পারে তোমার জীবনে। তাই প্রতি ব্যর্থতায় ভুল থেকে শিক্ষা নাও আর নিজের লক্ষ্যে অটুট থাকো যত বড় বাধাই আসুক না কেন। সফল তুমি হবেই, কেউ বাঁধা দিতে পারবে না।

আরো পড়তে পারো
ইনফিনিটি আসলে কতটা অসীম?
পঙ্গপাল কি? কিভাবে এর আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব?
Fake News বা গুজব কিভাবে চিনবে?
যে ৩টি গাছ আমাদের ঘরের ভেতরের বায়ু বিশুদ্ধ করে

Leave a Response

Abdullah Abu Sayeed
I am an Architecture student who loves to narrate story through lens. Loves to writes and wants to be a successful Entrepreneur.