লাইফ হ্যাকস

চাকরি খোঁজার সময় যে কাজগুলো অবশ্যই করবে!

চাকরি খোঁজার সময় যে কাজগুলো অবশ্যই করবে!
চাকরি খোঁজার সময় যে কাজগুলো অবশ্যই করবে!
1.04Kviews

কেউ গ্রাজুয়েশন শেষ করে চাকরি পাচ্ছে না আবার কেউ আগের চাকরি ছাড়ার পর পাচ্ছে না নতুন কোনো চাকরি। চাকরি পাচ্ছে না দেখে অনেককে প্রায় সময়ই হতাশায় ভুগতে দেখা যায়। চাকরি না পাওয়ার পিছনে কোনো না কোনো কারন বিদ্যমান যা আমাদের চোখে পড়ছে না। এমন কিছু কাজ রয়েছে, যা কখনই চাকরি খোঁজ করার সময় করা উচিত না। এই ভুল কাজগুলোর জন্যই তোমার অনেক ভালো ভালো সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে। কী এমন সেই সব কাজ? আমরা আজকে আলোচনা করবো সেকল ভুলগুলো যা আমাদের অবশ্যই পরিহার করতে হবে নতুন কোনো চাকরি খোঁজার আগে।

স্কিল ডেভেলপমেন্ট ও নানা রকম মজার টপিক নিয়ে আমরা নিয়মিত ভিডিও প্রকাশ করে থাকি Shadhin School চ্যানেল এ।

ঠিকমত সিভি লেখা

ঠিকমত সিভি না লেখার ভুলটা অনেকেই করে থাকে। তোমার হয়ত মনে হতে পারে সিভিতে আবার ভুল কিসের? কিন্তু নিজের তথ্যগুলো সব দিয়ে দিলেই সিভি হয় না। তুমি যাদের কাছে সিভি পাঠাচ্ছো, তাদের কাছে তোমার মত আরো কয়েকশত সিভি জমা পড়ে। এর মধ্যে থেকে তাদের কাছে যেগুলো যোগ্য মনে হয়, সেই প্রার্থীদেরকেই তারা ডাকে। তারা দেখতে চায়, তোমার সিভিতে যা আছে তা দিয়ে তাদের কোম্পানিকে তুমি কতোটা সাহায্য করতে পারবে। তুমি তাদের প্রয়োজন মিটাতে পারছো কিনা।

তাই একটি সিভি লিখে সেটিই সব কোম্পানিতে সাবমিট না করে, আগে কোম্পানিটি সম্পর্কে জানো। তারা কি ঠিক কি ধরণের লোক খুঁজছে নিয়োগ দেওয়ার জন্য সেটি আবিস্কার করো। তারপর সেটি মাথায় রেখে তোমার সিভি তৈরি করো। তোমার সিভিতে দেওয়া তথ্যগুলো সাজাও তাদের প্রয়োজন মাথায় রেখে।

ছাত্রজীবনে কোথায় কোথায় কাজ করেছো, কোন কোন ক্লাবের সাথে যুক্ত ছিলে, কোথাও ইন্টার্নশিপ করেছো কিনা তা সব উল্লেখ করে দাও। নিজের কোনো এক্সট্রা স্কিল থেকে থাকলে তাও উল্লেখ করে দাও। হতে পারে এইসবের জন্যই তারা তোমাকে ডাকতে পারে সাক্ষাৎকারের জন্য!

অনেকেই সিভির সাথে একটি কভার লেটার দেয়ার কথা ভুলে যায়। তুমি যদি কারো কাছে সিভি পাঠাও, তাহলে কেনো তার কাছে সিভি পাঠাচ্ছো, সেটিও উল্লেখ করার নিয়ম আছে। এটি ভুলে গেলে চলবে না। তুমি যদি খামে করে সিভি পাঠাও, তাহলে সিভির পাশাপাশি আলাদা একটি কাগজে কভার লেটার লিখে একই খামে করে পাঠানো উচিত। আর যদি সিভি ইমেইলে পাঠাও, তাহলে কভার লেটারের জন্য আলাদা ফাইল তৈরি না করে, ইমেইলের বডিতেই সেই কভার লেটার লিখে দেয়া উত্তম।

আরো পড়তে পারো ই-মেইল ব্যবহার এর ৬টি শিস্টচার

সীমিত পরিসরে চাকরি না খোঁজা

অনেকেই চাকরি খোঁজ করার সময় পড়ালেখার ব্যাকগ্রাউন্ড ধরে নিয়ে কেবল চাকরি খোঁজ করে। এটি আসলে মস্ত বড় একটি ভুল। তোমার যোগ্যতা অনুযায়ী যতো জায়গায় আবেদন করা সম্ভব, তার সব ক’টিতেই আবেদন করে রাখো। পাশাপাশি তোমার যদি মনে হয় অন্য কোথাও তোমার পক্ষে কাজ করা সম্ভব, তাহলে সেখানেও আবেদন করো। তুমি কখনোই জানো না তোমার শেষ গন্তব্য কোথায় হবে। তাই কেবল হাতে গোনা নির্দিষ্ট কয়েক জায়গায় আবেদন করে বসে না থেকে পছন্দমতো যোগ্যতা অনুযায়ী সব জায়গায় আবেদন করো। আর নতুন অভিজ্ঞতার জন্য হলেও তো আবেদন করা উচিত। একটি ব্যর্থ ইন্টারভিউর ভুল থেকে শেখার অভিজ্ঞতা হয়তো তোমাকে আরেকটি চাকরি পাইয়ে দিতে সাহায্য করবে।

আরো পড়তে পারো দ্রুত টাইপিং শিখার ৫টি গেম এবং অ্যাপ্লিকেশন

 

এইতো গেলো চাকরীর জন্য আবেদন করার জন্য করণীয় কিছু পরামর্শ। এখন বলি ইন্টারভিউ দিতে যাওয়ার সময় কি করবে আর কি করবে না সেটি নিয়ে। 

 

পোশাক নিয়ে খামখেয়ালি এবং বাড়াবাড়ি

তোমার বেশভূষার উপরও নির্ভর করে একটি জায়গায় তুমি চাকরি পাবে নাকি পাবে না। একটি ভাইভা বোর্ডের সামনে ফর্মাল ড্রেসে যাওয়াটাই নিয়ম। চাকরিদাতারা চায় একটি ফর্মালিটির মধ্যে দিয়ে যেতে। তারা চায় তোমার মধ্যে একটি প্রফেশনাল ভাব থাকুক। তোমার ড্রেস-আপ সেন্স যদি তাদের পছন্দ না হয়, তবে তারা তোমাকে বাদ দিতেও পারে।

আবার অনেকে ড্রেস-আপের ব্যাপারে একটু বেশি বেশিই করে ফেলে। বেশিরভাগ ইন্টারভিউয়ারের মতে, অতিরিক্ত পারফিউম এবং মেকাপ তাদের পছন্দ নয়। তারা অনেক যোগ্য প্রার্থীকে বাদ দিয়েছেন কেবল এই বাড়াবাড়ির জন্য। তাই সুগন্ধি এবং মেকাপ যাতে দুইপক্ষের মাঝে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সেদিকে খেয়াল রাখা উচিত।

ছেলেদের ক্ষেত্রে ফর্মাল ড্রেস বলতে শার্ট এবং প্যান্ট বোঝায়। কেউ যদি স্যুট পড়ে থাকে, তাহলে স্যুটের রঙের সাথে প্যান্টের রঙ মিল হতে হবে। শুধু এইটুকুই নয়। তুমি কোন রঙের শু পরেছো, তার সাথে তোমার বেল্টের রঙও মিল হতে হবে। খয়েরি রঙের শু পরে যদি সাথে কালো রঙের বেল্ট পরো, তাহলে তা বেমানান দেখায়। হাত ঘড়ির বেল্টের রংটিও যাতে শু এবং বেল্টের রঙের সাথে মিল থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখা উচিত। আর মেয়েদের ক্ষেত্রে আমাদের দেশে ফরমাল ড্রেস বলতে শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, শার্ট-প্যান্ট, স্যুট সবই চলে। তবে এক্ষেত্রে অতিরিক্ত মেকাপ পরিহার করাই শ্রেয়।

তাই পোশাক যেমন খামখেয়ালি করা যাবে না তেমনি যাতে কোনোভাবে বাড়াবাড়ি হয়ে না যায় সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।

আরো পড়তে পারো সঠিক সময়ে সকল কাজ শেষ করার সহজ উপায়

একেকজনকে একেক জবাব দেয়া

ভাইভা বোর্ডে কিন্তু একজন একা লোক বসে ভাইভা নেয় না। সেখানে অন্তত ৩-৫ জন সদস্য থাকেই। একটি প্রশ্নের জের ধরে তারা তোমাকে একাধিক প্রশ্ন করতেই পারে। তখন তুমি যদি দুইজনকে দুইরকম জবাব দাও, তাহলে সেটা তোমার জন্যই ক্ষতিকর। ভাইভার সময় নিজের ব্যাপারে সবকিছু সরলভাবে বলো। কখনওই বেশি তথ্য আনতে যাবে না। তাহলে তুমি নিজেই সমস্যায় পড়ে যেতে পারো। চেষ্টা করবে সকল প্রশ্নের উত্তর সহজ ও বোধগম্যভাবে দেয়ার জন্য। যদি তুমি বেশি পেঁচাতে যাও, তাহলে ইন্টারভিউ বোর্ডও তোমাকে পেঁচাবে। যার ফল স্বরূপ তোমার চাকরির সুযোগটাই হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে। মনে রাখবে, দুই মুখো তরবারি দুই দিকেই কাটে।

আরো পড়তে পারো ৫টি ইউটিউব চ্যানেল যা আমাদের স্মার্ট করে তুলবে

বর্তমানে চাকরি বাজার মানেই এক অসম প্রতিযোগিতা। এই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকলে হলে চাই নিজের প্রতি প্রবল আত্মবিশ্বাস। নিজের উপর এবং সৃষ্টিকর্তার উপর ভরসা রাখো। তোমার যদি যোগ্যতা থাকে, তাহলে তোমার কোনো না কোনো গতি হবেই। আর তুমি যদি বর্তমানে শিক্ষার্থী হয়ে থাকো, তাহলে আজই একটি সিভি তৈরি করে ফেলো। সেখানে লিস্ট করে ফেলো গ্র‍্যাজুয়েশনের পর তুমি নিজেকে কোন উচ্চতায় দেখতে চাও এবং সেই মোতাবেক কাজও শুরু করে দাও। যখনই কোনো প্রতিযোগিতার আমন্ত্রণ পাবে, চেষ্টা করবে সেখানে অংশগ্রহণ করার। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে অবশ্যই কোনো না কোনো ক্লাবের হয়ে কাজ করবে। দেখবে বছর শেষে তোমার সিভি এমনিতেই অনেক ভারী হয়ে গিয়েছে।

Source: thebalance, forbes & robi-10 minute school

আরো পড়তে পারো
ক্যারিয়ার শুরুতে ব্যর্থ ছিলেন সফল যে ৪ উদ্যোক্তা
সফলতার ৭টি সুত্র
ভার্সিটি জীবন শুরুর আগে করে ফেলো এই ৫টি কাজ
ফেইল মানেই কি সব শেষ?

 

Leave a Response

Abdullah Abu Sayeed
I am an Architecture student who loves to narrate story through lens. Loves to writes and wants to be a successful Entrepreneur.