প্রেরণামূলক

জীবনে সফল হতে হলে সবার আগে যা করনীয়

জীবনে সফল হতে হলে সবার আগে যা করনীয়
480views

জীবনে সফল হতে হলে কি করনীয়? এই প্রশ্নটা আমরা সবাই করে থাকি এবং এর উত্তরও আমাদের জানা থাকে। কিন্তু আমরা প্রতিবন্ধকতা সরাতে চাই না বলে বা সঠিক পরিকল্পনার অভাবে বেশিদূর এগুতে পারি না।

তোমার মূল্যবান সময়কে অহেতুক আড্ডা, নেতিবাচক ও অতীত চিন্তা অথবা তোমার নিয়ন্ত্রণের বাইরের চিন্তা-ভাবনায় (আকাশ-কুসুম) নষ্ট করবে না। বরং ইতিবাচক বর্তমান চিন্তায় তা বিনিয়োগ করে সুন্দর ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত করো। আজকে এই আলোচনার মধ্যে, আমি তোমাকে কিছু সহজ পদ্ধতির কথা বলবো যা তোমাকে জীবনে সফল হতে হলে কি করা উচিত তা সনাক্ত করতে সাহায্য করবে।

স্কিল ডেভেলপমেন্ট ও নানা রকম মজার টপিক নিয়ে আমরা নিয়মিত ভিডিও প্রকাশ করে থাকি Shadhin School চ্যানেল এ।

১। লক্ষ্য নির্ধারণ করো

লক্ষ্য নির্ধারণ করো

লক্ষ্যহীন জীবনে শান্তি থাকেনা। তাই সবার আগে জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণ করো। সেই লক্ষ্যের দিকে ক্রমাগত অগ্রসর হও দৃঢ় মনোবল আর বিশ্বাসের সাথে। নিজের নির্ধারিত লক্ষ্যকে কখনোই ছোট করে দেখবে না। সাহস রাখো প্রতিকূলতাকে জয় করার। জীবনে চলার পথে নানবিধ সমস্যা তোমার সামনে আসবেই। প্রত্যেক সমস্যারই সমাধান থাকে। তাই বিচলিত না হয়ে আত্মবিশ্বাসের সাথে পরিস্থিতি মোকাবেলা করো। প্রতিকূল পরিবেশে কোনো ভাবেই ভেঙ্গে পড়া চলবে না। মনে রাখবেন জীবন তোমার। লক্ষ্যে তোমাকে পৌঁছাতে হবেই।

আরো পড়ো ক্যারিয়ার শুরুতে ব্যর্থ ছিলেন সফল যে ৪ উদ্যোক্তা

২। আত্মবিশ্বাসকে জাগ্রত করো

আত্মবিশ্বাসকে জাগ্রত করো

ধরো, তোমার যদি হঠাৎ কোন একদিন মনে হয়, যে জীবন তুমি পার করছো তা যথেষ্ট ভালো নয়। এমন মনে হতেই পারে।  যখন তুমি তোমার আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলো  তখন এমনই মনে হবে। আর এমন যদি মনে হয় তাহলে তুমি একটি কাগজে লিস্ট আকারে তোমার জীবনের সকল ছোট বড় প্রাপ্তি গুলো লিখে ফেলো। দেখবে তালিকাটি বেশ বড় হয়ে গেছে! দেখো অতীতে কি দারুন গেছে তোমার সময়! তুমি আগে পারলে এখন কেনো পারবে না? “আমিই পারবো, আমাকে দিয়েই হবে” এই আত্মবিশ্বাসটা সবসময় মনের মধ্যে জাগিয়ে রাখবে। মানুষ এই আত্মবিশ্বাস নিয়েই সমস্যাই ভোগে। এটিই মানুষের এগিয়ে যাওয়ার পথের সবচেয়ে বড় বাধা। আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তুলতে পারলে তোমার জীবনের লক্ষ্যপূরণে আর কোনো বড়বাঁধা অবশিষ্ট থাকবে না।

আরো পড়ো মোটিভেশনের অভাব?

৩।যে জিনিসগুলো তোমাকে দমিয়ে রেখেছে সেগুলোর মুখোমুখি হও

যে জিনিসগুলো তোমাকে দমিয়ে রেখেছে সেগুলোর মুখোমুখি হও

জীবন চলার পথে এই কথাটি মাথায় রাখতে হবে, নিজেকে নিজেরই দেখে রাখতে হয়, সামলে রাখতে হয়। তোমার জীবনের ঘটনাগুলো যতখানি গুরুত্ব পাবার দাবি রাখে ততটাই দেওয়া চায়,না বেশি, না কম। এইটুকু জেনে রাখো যদি তুমি ভেঙ্গে পড়ো, উঠে দাঁড়াতে হবে তোমাকেই। তোমাকে টেনে তোলার মতো কেউ নেই। হোঁচট খেয়ে উঠে দাঁড়িয়ে আবার চলতে শেখা তোমারই কাজ। তাই যেসব বিষয় তোমাকে এগোতে দিচ্ছে না বা দমিয়ে রাখছে সেগুলোর মুখোমুখি হও এখনই। হয়তো মনে হবে বিষয়টি সুখকর নাও হতে পারে। তারপরেও মোকাবেলা করো সাহস নিয়ে। দেখবে শেষ পর্যন্ত সেগুলো দূর করতে সক্ষম হবে তুমি, সফলতা আসবেই।

আরো পড়ো ফেইল মানেই কি সব শেষ?

৪। Comfort Zone ত্যাগ করো

Comfort Zone ত্যাগ করো

তোমরা নিজেদের Comfort Zone থেকে বের হয়ে আসো। নতুন জিনিস চেষ্টা করো । তুমি সবসময় কোনোকিছু করতে চেয়েছিলে কিন্তু করতে পারো নি, সেটি চেস্টা করো। কিংবা এমন কিছু চেষ্টা করো যেটা করার সাহস তুমি আগে পাওনি কিংবা যা তোমাকে না পারার ভয় দেখায়। অর্থাৎ এমন কিছু করো যেটা তোমাকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়, যা তুমি সাধারনত করে থাকো তার থেকে আলাদা কিছু।

তোমার Comfort Zone এর বাইরে এসে একটি পদক্ষেপ নিয়ে দেখো। তুমি অবাক হয়ে যেতে পারো এটা দেখে যে তুমি হয়ত এমন কিছু করে ফেলেছো যা তুমি কখনও কল্পনা করো নাই!

আরো পড়ো ভার্সিটি জীবন শুরুর আগে করে ফেলো এই ৫টি কাজ

৫। সকালে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো করো

সকালে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো করো

মার্ক টোয়েন একবার বলেছিলেন, “যদি ব্যাঙ খাওয়া আপনার কাজ হয় তবে সকালে উঠে প্রথম এই কাজটি করা ভালো এবং যদি আপনার কাজ হয় দুটি ব্যাঙ খাওয়া তবে প্রথমে সবচেয়ে বড়টি খাওয়া ভালো”।

ব্যাঙ খাওয়া! শুনতে ক্যামন জানি হলেও এখানে মার্ক টোয়েন যে বিষয়টি বুঝাতে চেয়েছেন সেটি হল, দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং কঠিন কাজগুলো সকালে সম্পাদন করা উচিত। এর কারন হল সকালবেলা তুমি যখন ঘুম থেকে উঠো তখন তোমার শরীরের এনার্জি এবং ইচ্ছাশক্তি প্রবল থাকে। তাই তোমার উচিৎ এই সময়ে তোমার হাতে থাকা দিনের সবচেয়ে কঠিন কাজটি সম্পাদন করে ফেলা। দিনের শেষের দিকে তুমি যখন ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে পরবে, তখনকার জন্য কাজটি রেখে দিলে দিনশেষে কাজটি অসম্পূর্ণ কিংবা আশানুরূপভাবে সম্পন্ন নাও হতে পারে। তাছাড়া দিনের শুরুতে যদি কঠিন কাজটি শেষ করে ফেলা যায় তাহলে সেটি শেষ করার তৃপ্তি তোমার মানসিক শক্তিকে আরও চাঙ্গা করবে যার কারণে দিনের বাকি সময় তুমি আরো বেশি উদ্দীপিত থাকবে এবং বাকি কাজগুলো আর ভালোভাবে সম্পাদন করতে পারবে।

আরো পড়ো সফলতার ৭টি সুত্র

একবার ভেবে দেখো তো, উপরে যেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি এইগুলা খুব বেশি কঠিন কিছু কিংবা তোমার একেবারেই অজানা? মনে হয় না। আসলে আমরা এইগুলা প্রায় সবাই জানি কিন্তু ঠিক বুঝে উঠতে পারি না আসলে কি করা উচিৎ কিংবা কিভাবে করা উচিৎ। আমি আসলে তোমার সেসব সাধারণ কনফিউশন দূর করে তোমাকে Point Out করে দিলাম ব্যাপারগুলো। সিম্পল আই ৫টি পদক্ষেপ নাও আজই। বিশ্বাস করো, তোমার জীবন পাল্টে যাবে একেবারে!

নিচের লেখাগুলোও পড়তে পারো
ই-মেইল ব্যবহার এর ৬টি শিস্টচার
Fake News বা গুজব কিভাবে চিনবে?
ফেসবুকে সময় নষ্ট না করে কাজে লাগাও
ভুল তথ্য/গুজব কিভাবে আটকাবেন?

Leave a Response

Nusrat Jahan Anika
Sky is not limit for me.