ডিজিটাল প্লাটফর্ম হ্যাকসব্লগিং হ্যাকস

ব্লগিং শুরু করার ৭টি মূল কারণ

ব্লগিং শুরু করার ৭টি মূল কারণ
120views

ব্লগিং বর্তমান সময়ে খুব জনপ্রিয় একটি প্লাটফর্ম। লেখালেখি করা শখ, এমন মানুষ আমাদের চারপাশে নেহাতই কম নেই। কিন্তু শখটাকে অনেকেই ধরে রাখতে পারে না জীবিকার তাগিদে। আস্তে আস্তে ক্যারিয়ার এর দিকে মনোযোগী হতে গিয়ে লেখালেখির আর সময় হয়ে উঠে না অনেকেরই।

যারা একটু লেখালেখি চালিয়ে যায় তারাও টিকে থাকতে পারে না শেষ পর্যন্ত। ১০ বছর আগেও লেখালেখি করে বই বের করে না হোক, অন্তত খবররের কাগজ কিংবা ম্যাগাজিনে লিখে অর্থ উপার্জন করা যেতো। এখন তো সেটাও সম্ভব ন্য।মানুষ যে এখন ‘ফেসবুক’ পরতে এতই ব্যস্ত, ‘বুক’ পড়ার আর সময় পায়না।  

ব্লগিং অপার সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে সেই মানুষগুলির জন্য, যারা ক্যারিয়ার রক্ষা করতে গিয়ে লেখালেখির শখকে গলা টিপে মেরে ফেলেছে। ব্লগিং উপায় বের করে দিয়েছে অর্থ উপার্জন এর অনেকগুলো মাধ্যম। ব্লগিং করে মানুষ এখন প্রিন্ট মিডিয়ার থেকেও বেশি অর্থ উপার্জন করতে পারে।

শুধু অর্থ উপার্জন নয়, ব্লগিং এর সব চেয়ে বড়ো সুবিধা কি জানো? তোমার লেখা রিজেক্ট হওয়ার সম্ভাবনা নেই আর! তুমি নিজেই লেখক, তুমি নিজেই এর প্রকাশক! আর পাঠক এর প্রতিক্রিয়া তুমি দেখতে পারবে হাতে নাতেই। 

অবসর সময়কে কাজে লাগিয়ে তুমি অনায়েসের মনের সখ যেমন মেটাতে পারো তেমনি কিছু অর্থ উপার্জন করতে পারো। ছাত্রজীবনে আমরা সাধারণত টিউশন করে কিংবা কোচিং এ পড়িয়ে অবসর সময় কাজে লাগায় এবং উপার্জন করি। কিন্তু ঐ একই সময় কাজে লাগিয়ে তুমি আরো বেশি অর্থ উপার্জন করার সুযোগ পাবে ব্লগিং এর মাধ্যমে। আর ব্লগিং করতে গিয়ে তুমি কত কিছু শিখবে, তার কোনো ধারণা তুমি কল্পনাও করতে পারবে না।

আজকের এই লেখায় তুমি ব্লগিং কেনো শুরু করবে তার ৭টি প্রধান কারণ নিয়ে আমি আলোচনা করবো।

এই ৭টি কারণগুলো হলোঃ

  1. Royalty Earnings
  2. Freedom
  3. Always Learning
  4. Writing Skill & English language Development
  5. Low Investment Business
  6. Various Income Source
  7. Dream Job

এই আর্টিকেলে উপরের প্রত্যেকটা কারণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে এবং পুরো আর্টিকেলটি পড়ার পর তুমি বুঝতে পারবে-

  • তোমার আসলেই ব্লগিং করা শুরু হবে কিনা?
  • ব্লগিং শুরু করতে তোমার কি কি করা লাগবে?
  • ব্লগিং শুরু করলে তোমার কি কি লাভ হবে?
  • ব্লগিং তোমার ক্যারিয়ার এ কি ভ্যালু এড করবে?
  • ব্লগিং তোমার ভবিষ্যৎ এ কি কাজ দিবে?

 

১. Royalty Earnings

Royalty Earnings নিয়ে আমাদের অনেকেরই পরিষ্কার ধারণা নেই। Royalty Earnings আসলে কি? ধরো, যখন তুমি একটি নির্দিষ্ট সময় কাজ করার পর আর কাজ করলে না কিন্তু ঐ কাজের ভিত্তিতে তুমি পরবর্তীতেও অর্থ উপার্জন করতে পারবে। এই ধরনের যে উপার্জন পদ্ধতি, সেটিকে Royalty Earnings বলা হয়ে থাকে।

ব্লগিং যেহেতু লেখালেখির একটা অংশ তাই Royalty Earnings এর উদাহারন বই লেখককে দিয়েই দেই। ধরো, একজন লেখক যখন একটি বই লিখে তখন তিনি তার লেখক স্বতের জন্য ঐ বইটি যত বিক্রি হবে, তা থেকে অর্থ উপার্জন করেন।  এমনকি তিনি যদি বেঁচে নাও থাকেন তবুও তার বই যতদিন বা বছর বিক্রি হতে থাকবে বিক্রিত অর্থ থেকে তার ফ্যামিলি অর্থ পেতে থাকবেন। সেটিকে Royalty Earnings বলে।

শুধু লেখালেখি নয়, Royalty Earnings করা যায় এমন হাজারো রকম পদ্ধতি বা উপায় রয়েছে। যেমন অ্যাপস বা সফটওয়্যার, ইউটিউব ভিডিও কিংবা অনেকরকম ডিজিটাল প্রোডাক্ট আছে যেগুলো থেকে Royalty Earnings করা যায় খুব সহজেই।

উপার্জনের উৎকৃষ্ট পন্থা হিসাবে Royalty Earnings এর পৃথিবী জুড়ে ব্যাপক সুনাম রয়েছে।

ব্লগিংও একটি Royalty Earnings প্লাটফর্ম এবং বর্তমান যুগের প্রেক্ষাপটে সর্বশ্রেস্ট পন্থা । তুমি তোমার লেখা আর্টিকেল থেকে কিন্তু বছরের পর বছর অর্থ উপার্জন করতে পারবে। তবে মনে রাখবে, লেখাটি কিন্তু ভালো মানের হতে হবে এবং খেয়াল রাখবে যেনো লেখাটি কোথাও থেকে কপি করা না হয়। তুমি যে বিষয়ের উপরই লেখো না কেনো, ঐ বিষয়ের উপর ভালো করে রিসার্স করে তারপর নিজের ক্রিয়েটিভিটি দিয়ে লিখবে। আর বর্তমান প্রযুক্তির যুগে রিসার্স এর জন্য অনলাইনে রিসোর্স এর অভাব নেই। হাজার হাজার সাইট আছে যেখান থেকে সহজেই যেকোনো কিছু নিয়ে জানতে এবং শিখতে পারবে। দরকার শুধু মানসিকতা এবং পদক্ষেপ গ্রহণ।

 

২. Freedom বা স্বাধীনতা

যারা ব্লগিং করেন তাদের সবার প্রথম পছন্দ এর স্বাধীনতা। তুমি চাইলে কাজ করবে, চাইলে কাজ করবে না। তোমার কাউকে কাজ না করার জন্য জবাবদিহিতা করতে হবে না। কারণ তোমার বস তুমিই।

এখানে ৯টা থেকে ৫টা কাজ করারও কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। মনে রাখবে তুমি ঠিক যতখানি কাজ করবে, ততখানি বেনিফিট বা অর্থ উপার্জন করতে পারবে।

দেশ-দেশের হাজার হাজার মানুষ ব্লগিংকে উপার্জনের একমাত্র উপায় বা প্রধান জীবিকা নির্বাহের একমাত্র পন্থা হিসাবে নিয়েছে। তার মূলকারণ যে পরিমাণ সময় ব্লগিং এ দিতে হবে, ঐ সময়ের তুলোনায় উপার্জনের অনুপাত বেশি এবং কাজ করার স্বাধীনতা পাওয়া যায়।

৩. Always Learning

তুমি যে বিষয়েই লেখালেখি করো না কেনো, তোমার ঐ বিষয়ের উপর খুব ভালো ধারণা থাকতে হবে। আর ধারণা কারো থাকে না, এটি অর্জন করে নিতে হয়। তোমাকেও তোমার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রতিনিয়ত জানতে হবে, শিখতে হবে, রিসার্স করতে হবে। তুমি যত বেশি জানবে, তত ভালো মানের লেখা তোমার পাঠকদের উপহার দিতে পারবে। এভাবেই তুমি প্রতিনিয়তই কিছু না কিছু শিখতে পারবে।

 

৪. Writing Skill & English Language Development

হতে পারে তুমি তোমার বস। লেখা একটু এদিক সেদিক হলে তোমার কাউকে জবাবদিহিতা করতে হবে না। কিন্তু ভেবে দেখো তো, তোমার লেখা ভালো না হলে কেউ কি তোমার লেখা পড়তে আসবে? মোটেও না। তাই প্রতিনিয়ত তোমার লেখা কিভাবে ইম্প্রভ করা যায় তোমার সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। কিছুদিন ব্লগিং করার পর দেখবে তোমার লেখার স্কিল অনেকগুন ভালো হয়েছে। অর্থাৎ ব্লগিং করতে গিয়ে তুমি সুন্দর লেখার স্কিল টাও অর্জন করে ফেলেছো!

যদি ইংলিশ এ ব্লগিং করে থাকো তাহলে ইংলিশ স্কিলস বাড়ানো কিংবা ভাষাটা সম্পূর্ণ আয়ত্তে আনতে, এর চেয়ে ভালো উপায় মনে হয় আর একটাও নেই। ব্লগিং এ সফল হতে হলে তোমার লেখার গুণগত মান যেমন তোমার নিশ্চিত করতে হবে, তেমনি নির্ভুল লেখাও তোমাকে দিতে হবে। সেজন্য প্রতিনিয়তই তোমার ইংলিশ শেখার একটা তাগিদ থাকবে যেটিই তোমার English Language Development এর মুল কারণ।

৫. Low Investment

এখন হয়ত ভাবছো লেখালেখি করবো এখানে আবার ইনভেস্ট কেনো করা লাগবে? হ্যাঁ, তুমি সম্পূর্ণ ফ্রিতেও ব্লগ লেখা যায় এখন প্লাটফর্মে গিয়ে ব্লগ লিখতে পারবে অনায়েসেই। কিন্তু তোমার যদি মনে হয়ে থাকে তোমার ব্যয় করা সময়ের জন্য তোমার অর্থ প্রয়োজন কিংবা তোমার মুল লক্ষ্য যদি থাকে ব্লগিং থেকে অর্থ উপার্জনের তাহলে তোমার অবশ্যই কিছু অর্থ বিনিয়োগ করতে হবে।

কেনো ইনভেস্ট করতে হবে? অনলাইনে তোমার নিজের একটি ডোমেইন এবং লেখাগুলা হোস্ট করার জন্য একটি হোস্টিং লাগবে। ওয়েবসাইট বানাতে হবে। কাউকে দিয়ে যদি বানিয়ে নাও তোমার সব মিলিয়ে ৫০০০ টাকার কত খরচ হবে একটি ব্লগ সাইট বানাতে। যে পরিমাণ টাকা তুমি ব্লগিং থেকে উপার্জনের সুযোগ পাবে, ঐ হিসাবে এই ইনভেস্ট কোনো কিছুই না।

আর তুমি যদি ডেডিকেটেড হয়ে থাকো এবং তোমার শেখার মানসিকতা থাকে, তাহলে তুমি খুব সহজেই ইউটিউব দেখে (আমাদের চ্যানেল Shadhin School থেকে শিক্তে পারো) ব্লগ ওয়েবসাইট বানানো শিকে ফেলতে পারো। ওয়েবসাইট বানানো খুব সহজ। WordPress প্লাটফর্ম ব্যবহার করে এখন যেকেউ ওয়েবসাইট বানাতে পারে। শুধু দরকার একটু প্রচেস্টা।

ডোমেইন এর দাম কমবেশি প্রায় একই। কিন্তু অনেকরকম হোস্টিং পাওয়া যায়। শুরুর দিকে তোমার বেশিদামি হোস্টিং নেওয়ার দরকার নেই। কমদামী একটা নিয়ে শুরু করো। কারণ তোমার সবকিছু বূঝে উঠতে কয়েক মাস সময় এমনিই চলে যাবে। তোমার সাইটে ভিজিটর বা অনেক পাঠক আনতে আরো কয়েকমাস সময় চলে যাবে।  তাই শুরুতে বেশি পাওয়ারফুল হোস্টিং নেয়া অর্থের অপচয়। পরে অবস্থা বুঝে অনায়েসেই চেঞ্জ করে ফেলতে পারবে।

 

৬. Various Income Source

ব্লগিং তোমাকে খুলে দিবে ইনকাম করার অনেকগুলো রাস্তা। শুধু মাত্র লেখালেখি করে তোমার সাইটে ভিজিটর আনতে পারলে তোমার সাইটে প্রদর্শিত বিজ্ঞাপনের জন্য তুমি Google Adsense বা এই ধরনের প্লাটফর্ম থেকে অর্থ পাবে। এর বাইরেও অনেক উপায় আছে। যেমন, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং, ডিজিটাল কন্টেন্ট সেলিং, স্পন্সরড পোস্ট ইত্যাদি। এতসব সুযোগ থাকার কারনেই ব্লগিংকে মুল পেশা হিসাবে নিতে পারছে অনেকেই।

৭. Dream Job

একমাত্র ব্লগিং তোমাকে তোমার স্বপ্নের চাকরিটি দিতে পারে। তুমি যখন ঘুমাবে কিংবা পরিবারের সাথে সময় কাটাবে তখনও তুমি অর্থ উপার্জন করতে পারবে! এর থেকে বেশি আর কিইবা চাইতে পারে মানুষ!

কিছু বিক্ষিপ্ত ঘটনা বাদ দিলে কিংবা তুমি যদি অতিরিক্ত ভাগ্যবান না হও তাহলে সাধারণত ব্লগ থেকে ফুল টাইম উপার্জন আসতে কয়েক বছর সময় অন্তত লেগে যায়। যদি শুরুর এই কয়েকবছর সঠিক পন্থা মেনে ব্লগিং করো তাহলে এটি তোমার Dream Job হতে বাধ্য। কিন্তু শুরু সময়টা অনেক কষ্টের হয়ে থাকে। অনেক অনেক লেখা লাগে, অনেক অনেক কিছু নিয়ে রিসার্স করতে হয়, অনেক অনেক কিছু শিখতে হয়। প্রচুর সময় দিতে হয়। তুমি যত সময় দিবে, ব্লগিং ক্যারিয়ার তোমাকে ততই দিবে দুই হাত ভরে। সব কিছু মেনে যদি সঠিক পথে আগাও, যতই দিন যাবে, তোমার কস্ট ততই লাঘব হতে থাকবে। এর ২টি কারণ।

এক, প্রথম দিকে লিখতে তোমার বেশি সময় লাগবে। যতই লিখার অভ্যাস হতে থাকবে ততই সময় কম লাগবে, লেখার মানও ভালো হবে।

দুই, ধরো তুমি প্রতিদিন একটি করে আর্টিকেল লিখো। ৩-৪ বছর পর গিয়ে তোমার সাইটে আর্টিকেল সংখ্যা হবে ১০০০-১৫০০ টি! তুমি একবার চিন্তা করে দেখোতো, প্রতিদিন কত মানুষ তোমার লেখা টপিকে সার্চ করছে। এইরকম ১০০০-১৫০০টি টপিক নিয়ে তুমি লিখে ফেলেছো। কোনো না কোনো টপিকে জন্য প্রতি মিনিটে কেউ না কেউ আসবে তোমার সাইটে! কতগুলো পাঠককে তুমি আকৃষ্ট করতে পারবে একটু ভেবে দেখোত। মাত্র ৩-৪ বছর পরিশ্রম করে কি dream job কে পটাতে পারবে না?

 

এই লেখাটিতে আমি চেস্টা করেছি ব্লগিং এর বেসিক ধারণা দিতে। আশা করি পুরো লেখাটি পড়ার পর ব্লগিং তুমি শুরু করবে কি করবে না এইটার উত্তর তুমি পেয়ে গেছো। আর আমি কিন্তু তোমাকে বলছি না ব্লগিংকে এখনই উপার্জনের একমাত্র পন্থা বা ক্যারিয়ার হিসাবে নিতে কিংবা সব কিছু ছেড়ে দিয়ে ব্লগিং শুরু করতে।

 আগে ব্লগিং শুরু করে দেখো, আগাতে হলে অনেক কিছু জানতে হবে তোমার, যেটা তুমি আস্তে আস্তে শিখবে। শিখার মানসিকতা নিয়ে ধৈর্য ধরে লেগে থাকলে এই ব্লগিংকেই তুমি একসময় ক্যারিয়ার হিসাবে নিতে পারবে। কিন্তু রাতারাতি অর্থ উপার্জন করতে চাইলে কিংবা ধৈর্য ধারণ করতে না পারলে, তোমার উচিৎ হবে না ব্লগিং জগতে এসে সময় নস্ট করা।

আর যদি মনে হয় তুমি পারবে, তাহলে ব্লগিং নিয়ে আমার বাকিলেখা গুলো পড়তে পারো। মনে রাখবে, তোমার একদম খুঁটিনাটি জেনেই তবে ব্লগিং এ আসতে হবে। আর বিস্তারিত জানতে খুব বেশি যে সময় লাগবে টাও কিন্তু নয়। কিন্তু না ভালোভাবে না জানলে সঠিক পন্থা হয়ত শিক্তে পারবে না এবং ভুল করার কারনে তুমি সফল হতে না পারার সমূহ সম্ভাবনা থেকে যায়।

 

লেখাটি  Mastermind Hacks  থেকে অনুপ্রাণিত। ব্লগিং সম্পর্কে খুঁটিনাটি জানতে এবং ভালোভাবে শিখতে আমাদের বাকি লেখা গুলো কিংবা  www.MastermindHacks.com ফলো করতে পারো।

Leave a Response

Abdullah Abu Sayeed
I am an Architecture student who loves to narrate story through lens. Loves to writes and wants to be a successful Entrepreneur.