প্রেরণামূলক

মোটিভেশনের অভাব?

মোটিভেশন এর অভাব?
মোটিভেশনের অভাব?
80views

পৃথিবীর সব থেকে বড় মোটিভেশন হল সেলফ মোটিভেশন (Self Motivation)। তুমি যতক্ষণ নিজ থেকে মোটিভেটেট হবে না, ততক্ষণ কেউ তোমাকে মোটিভেটেট করতে পারবে না। যত বড় বড় মোটিভেশনাল স্পিকারদের কথা শুনো না কেনো, সেগুলো শুনে সেলফ মোটিভেটেট হতে না পারলে কোনো লাভ নেই।

মানুষের মোটিভেশনাল কথা, লেকচার শুনে আমরা মোটিভেটেড হই ঠিকই, কিন্তু তার স্থিতি খুব অল্প সময়ের জন্য থাকে… যখন শোনা হয়, তখন হয়তো উজ্জীবিত হই, চোখ জ্বলজ্বল করে উঠে… কিন্তু খানিক পরেই আবার সেই আগের মত।

জীবনে সবচেয়ে যে জিনিসটা বেশি দরকার তা হল সেলফ মোটিভেশন (Self Motivation) ও আত্মনিয়ন্ত্রণ। নিজের মনের উপর নিয়ন্ত্রণ না থাকলে কোন মোটিভেশনই তোমার জীবনে কাজে লাগবে না।

বিখ্যাত আমেরিকান লেখক এবং মোটিভেশন স্পিকার Stephen R. Covey বলেন Motivation is a fire from within. If someone else tries to light that fire under you, chances are it will burn very briefly.অর্থাৎ “মোটিভেশন নিজের ভেতরের আগুন, যদি অন্য কেউ তা জ্বালানোর চেষ্টা করে তবে তা খুব কমই জ্বলবে “ ।

এর মানে হচ্ছে কেউ তোমাকে অনুপ্রেরণা দিতে পারে তোমার লক্ষ্য অর্জন করতে, কিন্তু লক্ষ্য অর্জনে তোমাকেই এগিয়ে যেতে হবে। তোমাকেই নিতে হবে পদক্ষেপ, তোমাকেই কস্ট করতে হবে দিন রাত। তোমার হয়ে অন্য কেউ সেটা করে দেবে না কখনই।

মোটিভেশন হচ্ছে এমন এক উৎস যা তোমার মন-মানসিকতাকে  তোমার লক্ষ্য অর্জনে প্রস্তুত করবে। সঠিক মোটিভেশন তোমাকে এমন একটি অবস্থানে নিয়ে যেতে পারে যা তুমি কখনো কল্পনাও করোনি।

তাই প্রতিনিয়ত নিজেকে মোটিভেটেড রাখতে কিছু উপায় আমাদের অবশ্যই জানা প্রয়োজন। আজকের এই লেখায় আমি সেসব বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করবো।

আরো পড়তে পারো আমাদের ডাবের পানি কেনো খাওয়া উচিৎ

লক্ষ্য নির্ধারণঃ

মোটিভেশন

মনে রাখবে, লক্ষ্যহীন জীবনে কোনো সফলতা আসে না। সফলতা আসবেই বা কি করে যদি সফল হওয়ার জন্য লক্ষ্যই নির্ধারণ না করো? লক্ষ্য নির্ধারণ ব্যতিত সফল হওয়ার স্বপ্ন দেখা আকাশ-কুসুম কল্পনা এর চেয়ে কোনো অংশে কম নই। এই তুমিই সপ্ন দেখো সফল হওয়ার, কিন্তু লক্ষ্যহীন জীবন-যাপন করে যখন সফলতার ধারে কাছেও যাবে না সেই তুমিই নিজের কপালকে দোষারোপ করবে।

স্বপ্ন দেখো, সেই স্বপ্নকে বাস্তবে পরিণত করতে তোমার কি কি করতে হবে তা ঠিক করো। সবকিছু সম্ভব হবে যদি তুমি সবার আগে তোমার লক্ষ্য নির্ধারণ করো।

লক্ষ্য নির্ধারণ তিন রকম হতে পারে :

১। স্বল্প মেয়াদী : এমন কোন লক্ষ্য যা কিছু সপ্তাহ অথবা মাসে অর্জন করা যায়।

২। মধ্যম মেয়াদী : এক অথবা দুই বছর সময় লাগতে পারে এমন কোন লক্ষ্য।

৩। দীর্ঘ মেয়াদী : ক্যারিয়ার প্লান , বাড়ি অথবা গাড়ি কেনা এই ধরনের লক্ষ্যগুলোকে দীর্ঘ মেয়াদী বলা হয়।

আরো পড়তে পারো পাসপোর্ট র‍্যাঙ্কিং নিয়ে যা জানা জরুরি

পরিকল্পনা করোঃ

মোটিভেশন

লক্ষ্য নির্ধারণ এর পর সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা করতে হবে। তোমার লক্ষ্য যদি  দীর্ঘ মেয়াদী হয় তাহলে সেটিকে ছোট ছোট কিছু মাইলস্টোন আকারে ভাগ করে ফেলো পরিকল্পনা মাফিক। তারপর ঐ পরিকল্পনা অনুযায়ী একটা একটা করে মাইলস্টোন অর্জন করো। এইসব মাইলস্টোন সিঁড়ির ধাপের মত কাজ করে। একটা একটা করে আগাতে আগাতে দেখবে তোমার আসল লক্ষ্যে পৌঁছে গেছো।

তাছাড়া প্রতিদিনের জন্য আলাদা আলাদা পরিকল্পনা করবে। প্রতিদিন রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে অন্তত ১০-২০ মিনিট সময় ব্যয় করবে কালকে কি কি কাজ করতে হবে তোমার সেগুলো লিস্ট করার কাজে। এই লিস্টটি তোমাকে কালকের পুরোদিনের কাজগুলো নিয়ে একটা আইডিয়া দিয়ে দিবে। তুমি বুঝতে পারবে কালকে তোমার কতগুলো কাজ, কঠিন কাজ কোন্টী কিংবা কোন কাজে বেশি সময় দিতে হবে। আগের দিন রাতেই যদি তুমি এই পরিকল্পনার কাজটি সেরে ফেলো তাহলে তোমার মাইন্ড সেটআপ যেমন হয়ে যাবে পরদিনের কাজের জন্য তেমনি পরদিনের কাজের ভীরে কোনো কাজ মিস করে যাওয়ার সুযোগ থাকবে না।

আরো পড়তে পারো মেসার্স / ট্রেডার্স / ব্রাদার্স শব্দগুলো সম্পর্কে তুমি কতটুকু জানো?

নিজের লক্ষ্য ও উদ্দেশে অটুট থাকোঃ

মোটিভেশন

তুমি যখন একটি লক্ষ্য নিয়ে আগাতে থাকবে তখন জীবন চলার পথে এমন এমন কিছু মানুষ পাবে যারা তোমাকে বিভিন্ন ভাবে নিরাশ করবে। ভুল মানুষের মোটিভেশন তোমাকে অনেক বড় বিপদেও ফেলতে পারে। তোমার একটা সময় মনে হবে, “ধুর, আমার লক্ষ্য ঠিক নাই। এটি অর্জন করে লাইফে কিছুই হবে না।”

মনে রাখবে, কোনো সময় নিরাশ হওয়া যাবে না। যখন তুমি একটি লক্ষ্য ঠিক করেছো সেটিতে অবশ্যই অনড় থাকবে। কারো কথায় নিরাশ না হয়ে তুমি কিভাবে তোমার লক্ষ্যে নিজের সেরাটা নিয়ে পৌঁছাবে সেই চিন্তা করবে। নিজেকে সবসময় মোটিভেটেড রাখবে।

আরো পড়তে পারো Google এর যেসব এপ্লিকেশন স্মার্টফোন ব্যবহারকে করবে আরো সহজ

নেতিবাচক মানুষ থেকে সর্বদা দূরে থাকোঃ

Ignore Negative People

“তোকে দিয়ে কিচ্ছু হবে”, “তুই এটা পারবি না”। তোমার চারপাশের অনেকেই এ ধরণের কথা তোমাকে বলে থাকবে। এই ধরনের নেতিবাচক কথা বলা মানুষের থেকে সব সময় দূরত্ব বজায় রাখো। তাদের আই ধরণের কথায় তোমার ইচ্ছাশক্তির অকাল মৃত্যু ঘটবে।

পজেটিভ চিন্তার মানুষ বেস্ট মোটিভেটর হয়। যখনই তোমার মনে কোন নেতিবাচক চিন্তা আসবে, তুমি অবশ্যই পজেটিভ চিন্তা-ভাবনার মানুষের সাথে কথা বলবে। দেখবে তোমার আত্মবিশ্বাস আপনা আপনিই বেড়ে যাবে। তাই সবসময় চেষ্টা করবে ইতিবাচক চিন্তা করে এমন মানুষের সাথে থাকতে।

আরো পড়তে পারো ফেসবুকে সময় নষ্ট না করে কাজে লাগাও

অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা করা যাবে নাঃ

কোনো কিছু নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা থেকেই দুশ্চিন্তার সুত্রপাত। সবসময় অতিরিক্ত চিন্তা করলে নেতিবাচক দিকগুলোই সামনে আসবে। আমরা সবাই জানি যে ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত কিন্তু এর মানে শুধু এই না যে, আমরা যা চাচ্ছি ভবিষ্যতে তার চেয়ে খারাপ কিছুই অপেক্ষা করছে। আগামীকাল কী হবে সেটা ভেবে আজকের দিনটা কেন নষ্ট করছো? তার চেয়ে আগামীকাল কিভাবে ভালো হবে সে লক্ষ্যে আজকের দিনকে কাজে লাগাও।

এমনটাও হতে পারে যে, ভবিষ্যতে আমাদের জন্য এত ভাল কিছু অপেক্ষা করছে, যা আমরা কখনো চিন্তাও করিনি। তাই ভবিষ্যতে ভাল কিছুই হবে এই চিন্তা মাথায় রেখে প্রতিটা দিন, প্রতিটা মুহূর্ত কাজে লাগিয়ে আমাদের এগুতে হবে।

স্কিল ডেভেলপমেন্ট ও নানা রকম মজার টপিক নিয়ে আমরা নিয়মিত ভিডিও প্রকাশ করে থাকি Shadhin School চ্যানেল এ।

পরিশেষে, আর একটা কথা বলতে চাই। সবসময় সুখী থাকার চেস্টা করবে। তোমার যা আছে তাই নিয়েই সুখী থাকা শিখো। তোমার যা আছে, তা হাজার হাজার মানুষের নেই, তারা তোমার যা আছে তা পাবার স্বপ্ন দেখে। তাই অন্যের কি আছে সেটা দেখে মন খারাপ না করে, তোমার যা আছে তা দেখে শুকরিয়া জানাও সৃষ্টিকর্তাকে। নিজেকে সুখী রাখতে পারলে তুমি বলতে গেলে অনেকটাই সেলফ মোটিভেটেট হয়ে যাবে।

আরো পড়তে পারো
ইনফিনিটি আসলে কতটা অসীম?
পঙ্গপাল কি? কিভাবে এর আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব?
Fake News বা গুজব কিভাবে চিনবে?
যে ৩টি গাছ আমাদের ঘরের ভেতরের বায়ু বিশুদ্ধ করে

Leave a Response

Abdullah Abu Sayeed
I am an Architecture student who loves to narrate story through lens. Loves to writes and wants to be a successful Entrepreneur.