প্রেরণামূলক

সফলতার ৭টি সুত্র

সফলতার ৭টি সুত্র
সফলতার ৭টি সুত্র
239views

আমরা সবাই সফল হতে চাই। জীবনে সফল হওয়া যে কঠিন তা কিন্তু নয় কিন্তু সাফল্যের পথে রয়েছে অনেক বাঁধা-বিপত্তি, অনেক মরীচিকা। কিন্তু তোমার সেইসব মোকাবেলা করেই সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।

প্রত্যেকটা মানুষের সফল হওয়া অনেকটা মৌলিক অধিকার। কিন্তু আমরা কিভাবে যেনো খেই হারিয়ে ফেলি, হারিয়ে যায় ব্যর্থতার মাঝে। সাধারণ কিছু ভুল আমরা করে থাকি নিজের অজান্তেই যার কারণে আমরা সফল হতে পারিনা। সেই ভুলের আলোকে আমি আজকে ৭টি পয়েন্ট নিয়ে আলোচনা করবো যেগুলো সফলতার সুত্র হিসাবে তুমি কাজে লাগাতে পারবে তোমার জীবনে। সঠিক ভাবে যদি এইগুলা মেনে চলতে পারো তাহলে সফলতা তোমার কাছে ধরা দিতে বাধ্য।

আরো পড়তে পারো জীবনে সফল হতে হলে সবার আগে যা করনীয়

১. লক্ষ্যে অবিচল থাকোঃ

সফল হতে হলে সবার আগে তোমাকে তোমার জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে। লক্ষ্যহীন জীবনে সাফল্য আসার কোনো কারণই তো নেই! তুমি যখন একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য ঠিক করবে তখন তুমি বুঝতে সক্ষম হবে আসলে তোমার কি কি করা উচিৎ তোমার লক্ষ্য পূরণের জন্য। সে অনুযায়ী পরিকল্পনা করো। ঐ পরিকল্পনাকে দিন আকারে ভাগ করে নাও। প্রতিদিন শেষ করো ঐ দিনের জন্য বরাদ্ধকৃত কাজগুলো সম্পন্ন করার মধ্যদিয়ে। এভাবে পরিকল্পনামাফিক আগালে, প্রতিদিন অল্প অল্প করে তুমি এগুতে থাকবে তোমার লক্ষ্যের দিকে। এভাবেই একদিন তুমি তোমার লক্ষ্যে পৌছাতে থাকবে।

তাই লক্ষ্যে অবিচল থাকো।

আরো পড়তে পারো মোটিভেশনের অভাব?

২। মনোযোগের কেন্দ্র নির্ধারণ করোঃ

মনোযোগের কেন্দ্র নির্ধারণ বা নির্দিষ্ট দিকে ফোকাস করাটা বেশি জরুরি। আমরা সাধারণত নানাদিকে মনোযোগ দিয়ে থাকি। তাই আমরা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌছাতে পারি না। অনেকদিকে মনোযোগ থাকলে আমরা হারিয়ে যাবো জীবন চলার পথে। তাই আমাদের নির্দিষ্ট দিকে ফোকাস নির্ধারণ করে আগানো বেশি প্রয়োজন। আমরা যদি নিশ্চিত হয়ে যায় আমাদের ফোকাস কি তাহলে আমরা সহজেই বিভ্রান্ত হবো না।

আরো পড়তে পারো ক্যারিয়ার শুরুতে ব্যর্থ ছিলেন সফল যে ৪ উদ্যোক্তা

৩। ধৈর্য হারাবে নাঃ 

অল্পতেই ধৈর্যহারা হবে না। সৃষ্টিকর্তা ধৈর্যশীলদের সাথে থাকেন। জীবনে ধৈর্য ধারণ করতে পারাটা বেশি জরুরি। লক্ষ্য পৌছাতে কত শত বাঁধা যে আসবে তার হিসাব করে কূল পাবে না। কিন্তু এইসব বাঁধা দেখে যদি হতাশ হয়ে পড়ো তাহলে লক্ষ্য পূরণ হবে কিভাবে? তাই ধৈর্য ধারণ করে এগিয়ে যেতে হবে সকল বাঁধা বিপত্তি পেড়িয়ে। এটা সবচেয়ে কঠিন কাজ এই ৭টি পয়েন্টের মধ্যে। যদি এটি অর্জন করতে পারো তাহলে তোমার লক্ষ্য অর্জন অনেকটাই নিশ্চিত।

আরো পড়তে পারো ফেইল মানেই কি সব শেষ?

৪। সংশয় ত্যাগ করোঃ 

মনের মধ্যে সংশয় একদমই রাখবে না। “এটি পারবো না”, “ওইটি করা সম্ভব না”, “আমাকে দিয়ে এইসব হবে না” – এই ধরণের নেতিবাচক কথা থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখো। সবসময় ইতিবাচক চিন্তা করবে। নিজেকে সব সময় সেলফ মোটিভেটেট রাখবে। মনে রাখবে, সেলফ মোটিভেশন এর চেয়ে বড় কোনো মোটিভেশন নেই।

ইতিবাচক চিন্তা তোমাকে যেমন এগিয়ে নিবে অনেক দূর, ঠিক তেমনি নেতিবাচক চিন্তা তোমাকে পিছিয়ে দিবে বহুদূর। তাই, সকল রকমের সংশয় ত্যাগ করে সবসময় ইতিবাচক থাকার চেস্টা করো।

আরো পড়তে পারো ভার্সিটি জীবন শুরুর আগে করে ফেলো এই ৫টি কাজ

৫। অলীক কল্পনা/হতাশা থেকে দূরে থাকোঃ 

‘যদি আমার এটা থাকতো’, ‘এমন যদি হতো’- এ ধরনের কল্পনা গুলোই হতাশাগ্রস্ত জীবনের জন্যে দায়ী। এই ধরনের চিন্তা থেকে দূরে থাকতে হবে। অতীতে কি করতে পারো নি কিংবা না পারার হতাশা তোমাকে গ্রাস করতে দিও না।  অতীতে কেনো পারোনি সেটির খুজে বের করো এবং সেগুলো সমাধানের চেস্টা করে যাও।

আর শুধু স্বপ্ন দেখলেই হবে না যদি সেটিপূরণের কোনো তাগিদ তোমার ভেতর না থাকে। তাহলে সেটি আর স্বপ্ন থাকবে না, অলীক কল্পনা বা আকাশ কুসুম চিন্তা হয়ে যাবে। তাই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে উঠে পড়ে লাগো।

আরো পড়তে পারো আমাদের ডাবের পানি কেনো খাওয়া উচিৎ

৬। সমাজকে ভয় পাবে নাঃ 

সমাজে এমন কিছু মানুষ আছে যাদের কাজই হল নেতিবাচকতা ছড়ানো। তুমি জীবন চলার পথে এমন অনেক নেতিবাচক মানুষের সন্ধান পাবে যারা তোমাকে বলবে, “তোমাকে দিয়ে কিচ্ছু হবে না”, “এই কাজটি কখনই করা সম্ভব না”, “তুমি এটা পারবে না, সহজ কিছু করো” ইত্যাদি।

তুমি মানসিক ভাবে প্রস্তুত থাকো এইসব নেতিবাচকতা  পরিহার করার জন্য। এইগুলাকে কখনোই প্রশ্রয় দিবে না। মনে রাখবে, তুমি যখন এগিয়ে যাবে তখন তোমাকে পিছন থেকে টেনে নামানোর চেস্টা করার মানুষের অভাব হবে না। কিন্তু তারপরও তোমাকে দৃঢ় প্রত্যয়ে এগিয়ে যেতে হবে।

আরো পড়তে পারো পাসপোর্ট র‍্যাঙ্কিং নিয়ে যা জানা জরুরি

৭। অলসতা পরিহার করোঃ

অলসতা একটি বিশাল সমস্যা। আমরা সাধারণত আলসেমির কারণে প্রয়োজনীয় কাজগুলো অনেক সময়ই শেষ করতে পারি না। ফলে ধীরে ধীরে কাজগুলো জমে একসময় পাহাড়সম মনে হয়। আর সেই কাজের স্তূপে আমরা চাপা পড়ে হেরে যায় নিজেদের লক্ষ্য বা স্বপ্নের কাছে।

তাই মনে রাখবে, কোনোভাবেই আলসেমিকে ছাড় দেওয়া যাবে না। প্রয়োজনীয় ঘুম বা বিশ্রাম এর বেশি এক মুহূর্তও নস্ট করার মত সময় তোমার হাতে অবশিষ্ট নেই। কাজ জমিয়ে না রেখে প্রতিদিনের কাজ প্রতিদিনই শেষ করে ফেলো।

স্কিল ডেভেলপমেন্ট ও নানা রকম মজার টপিক নিয়ে আমরা নিয়মিত ভিডিও প্রকাশ করে থাকি Shadhin School চ্যানেল এ।

এখানে যে ৭টি পয়েন্ট নিয়ে আলোচনা করেছি এগুলো মূলত সফলতার পথে প্রধান বাধার কারণ। এগুলো মেনে চলো। প্রতিদিন চেষ্টা করে যাও ব্যর্থতা থেকে পরিত্রাণ পেতে। একদিন না একদিন ঠিকই জয়ী হবে। নিজের সাম্রাজ্যে নিজে রাজার মতো থাকো। সফলতার সাথে বাঁচো। সফল মানুষ হয়ে বাঁচো। তাহলেই তোমার জন্ম সার্থক।

আরো পড়তে পারো
ই-মেইল ব্যবহার এর ৬টি শিস্টচার
দ্রুত টাইপিং শিখার ৫টি গেম এবং অ্যাপ্লিকেশন
সঠিক সময়ে সকল কাজ শেষ করার সহজ উপায়
৫টি ইউটিউব চ্যানেল যা আমাদের স্মার্ট করে তুলবে

 

Leave a Response

Abdullah Abu Sayeed
I am an Architecture student who loves to narrate story through lens. Loves to writes and wants to be a successful Entrepreneur.